যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে পাকিস্তান চূড়ান্ত পর্যায়ের ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এ শীর্ষ কূটনীতিক একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। খবর আনাদোলু।
ওয়াশিংটনে আটলান্টিক কাউন্সিলে আয়োজিত এক আলোচনায় বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে মন্তব্য করেন ইসহাক দার। শুক্রবারের ওই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা।’
এর আগে পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত এ শুল্ক স্থগিত রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির জন্য সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে জাপান, ফিলিপাইনসের মতো দেশ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।
ইসহাক দার জানান, ওয়াশিংটনে চুক্তি বিষয়ে পাকিস্তানের একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা এখন চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছেন। বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের বিষয়টি এখন মাস নয়, এমনকি সপ্তাহও নয়—শুধু কয়েকদিনের ব্যাপার।
এমন মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন ইসহাক দার। সেখানে তারা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যার মধ্যে ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও খনি শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি।
ইসহাক দার জানান, আসন্ন চুক্তিতে বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি পাকিস্তানের বিশাল সম্পদ ভাণ্ডারে, বিশেষ করে খনি ও উপকূলীয় গ্যাস ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, মার্কিন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে ‘বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে’ উল্লেখ করে ইসহাক দার জানান, পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য প্রায় ৬-৮ ট্রিলিয়ন ডলার।